জীবনী

শামসুন্নাহার মাহমুদ

বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ১৯০৮ সালের ১৯ অক্টোবর নোয়াখালী জেলার ফেনী মহকুমার গুতুমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মাতা আসিয়া খাতুন চৌধুরাণী এবং পিতা মুহম্মদ নুরুল্লাহ্ এর দ্বিতীয় সন্তান তিনি। ১৯০৯ সালে পিতা (মুহাম্মদ নুরুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করলে মা এবং ভাই ইকবাল বাহার চৌধুরীর সাথে তিনি নানা খান বাহাদুর আবদুল আজিজ বিএ এর বাড়ি চট্টগ্রামে চলে আসেন। এখানেই তাঁর শিক্ষাজীবনের বিকাশ ঘটে।

১৯২৬ সালে তিনি প্রথম বিভাগে চারটা লেটার ও স্টার মার্কসহ প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এবছরই ডা. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯২৮ সালে তিনি কলকাতার ডায়াসেশন কলেজ থেকে ডিস্টিংশনসহ বিংশতিতম স্থান অধিকার করে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯২৮ সালের ২৯ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ পুত্র মামুন মাহমুদের জন্ম হয়। ১৯৩২ সালে বিএ পরীক্ষায় পাশ করেন। বিএ পরীক্ষা পাশ উপলক্ষ্যে সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল স্কুলে বেগম রোকেয়া তাকে বিরাট সংবর্ধনা দেন। ১৯৪২ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন।

বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শামসুন নাহার নারীমুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম-এর মতো বিভিন্ন নারী কল্যাণমূলক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৫ সালে ভারতীয় নারীদের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও তাঁর অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। ১৯৩৩ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হবীবুল্লাহ্ বাহারের সাথে চতুর্মাসিক 'বুলবুল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যেটি ১৯৩৬ মাসিক পত্রিকা রূপে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন সমাজে প্রগতিশীল চিন্তা প্রচারে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৩৬ মা আসিয়া খাতুন চৌধুরাণীর মৃত্যু হয়। ১৯৩৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মঈনুদ্দীন মাহমুদের জন্মগ্রহণ করে।

১৯৩৯ সালে কলকাতার শামসুন নাহার মাহমুদ লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে বাংলার অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ইডেন কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কিন্তু শারীরিকিভাবে সুস্থ না থাকায় তিনি অবসর নেন। অবশ্য সামাজিক কাজের ক্ষেত্র থেকে তিনি কখনো অবসর নেননি। ১৯৫০ সালে All Pakistan wom-en's Association-এর পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৫৫ সালে 'বুলবুল ললিতকলা একাডেমি' এর প্রতিষ্ঠাতে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে এবং আমৃত্যু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী সংসদের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬১ সালের ১লা নভেম্বর স্বামী ডা. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য (বিরোধী দলীয়) নির্বাচিত হন, ১৯৬৩ সালে শিশুকল্যাণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

১৯৬৪ সালের ১১ই এপ্রিল শামসুন নাহার মাহমুদের জীবনাবসান হয়। শিক্ষাবিদ, সমাজসেবা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে ১৯৮১ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) এবং ১৯৯৫ সালে রোকেয়া পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়।

শামসুন্নাহার মাহমুদের বংশ পরিচিতি

মিডিয়া

মিডিয়া
ভিডিও
মিডিয়া থাম্বনেইল মিডিয়া থাম্বনেইল মিডিয়া থাম্বনেইল মিডিয়া থাম্বনেইল মিডিয়া থাম্বনেইল